Teachers Time - 8

শিশু মাতৃগর্ভে থাকাকালিন সময় থেকেই মা বাবারা তার লালন-পালন থেকে শুরু করে ভবিষৎ নানা পরিকল্পনা নিয়ে খুব ব্যস্ত হয়ে পড়ে। আর শিশু জন্মের পর সেই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নে নেমে পড়েন। প্রতিটা মা-বাবাই তার সন্তানকে সুন্দর একটা আগামীর পথযাত্রী হিসেবে দেখতে চায়, ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। সন্তান যাতে অন্যদের জন্য ভালো কিছু কাজ করতে পারে এমনটাই আশা রাখেন।

সন্তান বড় করে তোলার এসব স্বপ্ন, পরিকল্পনা, আশা তখনি বাস্তবায়িত হয় যখন বাবা মাও শিশুর সাথে তাদের বড় হওয়ার এ যাত্রায় নিজেদের সপে দেন। এ যাত্রার অংশ হিসেবে শুধু শিশুই না বাবা-মাও শিখতে পারেন, জানতে পারেন অনেক নতুন কিছুই।

আপনার শিশুর স্বভাব চেনা এবং তাকে নতুন কিছু শেখানোর ক্ষেত্রে নিচের পদ্ধতিগুলো কাজে  কার্যকর হতে পারে।

 ১। পরিবার এবং পরিবেশঃ

পরিবারই শিশুর প্রথম স্কুল। বাবা-মা তার প্রথম শিক্ষক। শিশু সেখানে যা দেখবে, যা শুনবে সেটাই আয়ত্তে নেবে। তাই নিজের সন্তানকে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সন্তানের কাছে তার বাবা-মাকে ভালো এবং আদর্শ  মানুষ হিসেবে উপস্থাপনের চেয়ে সেরা উদাহরণ আর কিছু হতে পারে না। আপনার অন্যের প্রতি আচরণ আপনার শিশুর ব্যবহারবিধির দিক নির্দেশনা।  

২। সময় কাটানোঃ

বাবা-মায়েরা সন্তানের সুষ্ঠু বিকাশ নিয়ে বরাবরই চিন্তিত থাকেন। শিশুর সঠিক বিকাশে শিশুর সাথে বাবা-মায়ের কোয়ালিটি সময় কাটানোর পাশাপাশি তাদের সংযুক্ত করতে হবে নানান সৃজনশীল কাজেও। সৃজনশীল এই কাজগুলো যেন শিশু বোঝা না মনে করে সে বিষয়ে অভিভাবকে নজর রাখতে হবে। শিশুদের নিজ থেকে কোনো কিছু শেখার আগ্রহ খুব কমই থাকে, কোন কিছু থেকে উৎসাহও হারিয়ে ফেলে খুব তাড়াতাড়ি। শিশুর আগ্রহ ধরে রাখতে আপনি আপনার শিশুকে যা শেখাতে চাচ্ছেন  সেটি শেখানোর ধরণটাকে করে তুলতে হবে দারুণ মজাদার ও আকর্ষণীয়।

 ৩। খেলনা দিয়ে শেখাঃ

শিশুরা তাই করতে ভালোবাসে যার মধ্যে সে আনন্দ খুঁজে পায়। শিশুদের শেখার পদ্ধতিগুলোকে মজাদার করতে কিছু জিনিস মাথায় রাখতে পারেন। যেমন খেলার ছলে আপনি আপনার সন্তানকে খেলনার কালার কিংবা শেইপ শিখিয়ে ফেলতে পারেন। আবার খেলনা ব্যবহার করে সন্তানকে গণনাও শিখাতে পারেন। এগুলোর মাধ্যমে শিশুর যেমন শেখা হয় তেমনি শিশুর সাথে মা-বাবার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কও গড়ে ওঠে।

৪। স্বভাব চেনাঃ

এছাড়া খেলার সময় আপনার শিশু কোন অবস্থায় কি ধরণের রিএ্যাক্ট করছে সেটাও আপনি সহজেই বুঝতে পারবেন। পাশাপাশি কোন পরিবেশে, কোন পরিস্থিতিতে আপনার প্রতিক্রিয়াগুলো কেমন সেটা দেখে শিশুও সঠিকভাবে প্রতিক্রিয়া করতে শিখবে।

৫। মেনে নেওয়া শেখানোঃ

সন্তানের সাথে খেলতে গিয়ে অনেক সময় মা-বাবারা তাদের কাছে ইচ্ছে করে হেরে যায়। সাধারণত সন্তানকে খুশি করানোর জন্য মা-বাবা এটা করে থাকে। মা-বাবার দিক থেকে এ ধরণের আচরণ মোটেও ঠিক নয়। এতে করে শিশুর মধ্যে কেবলই জয়ী হবার অভ্যাস জন্ম নেয়। হেরে যাওয়া ব্যাপারটাকে সে আর স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারে না। যার ফলে পরর্বতীতে কখনো কোথাও হেরে গেলে সে হতাশায় ভোগে। খেলায় হার-জিত আছে এবং হেরে যাও্যার মধ্যে কোনো লজ্জা নেই, বরং চেষ্টা করার মধ্যেই সফলতা নিহিত এই বোধটি শিশুর মধ্যে জাগিয়ে তোলা প্রত্যেক মা-বাবার কর্তব্য।

৬। খেলার ছলে শেখাঃ

সন্তানকে কিছু শিখানোর জন্য পরিকল্পনামাফিক বিভিন্ন খেলার আয়োজন করা যায়। তবে এই খেলা শিশুর স্বভাব অনুযায়ী নির্বাচন করতে হয়। প্রতিটা শিশু যেমন একজন আরেকজনের থেকে ভিন্ন, তেমনি তাদের স্বভাবও ভিন্ন। কেউ খেলনা দিয়ে  একা খেলতে পছন্দ করে, তো কেউ আবার খেলনা দিয়ে অন্যের সাথে গল্প করে খেলতে ভালোবাসে। কিছু কিছু শিশুর প্রতিনিয়ত নতুন খেলনা পছন্দ । কিছু কিছু ক্ষেত্রে াবার শিশুকে দেখবেন নতুন খেলনা কেনার ঘন্টা না পার হতেই সেটা সে ভেঙ্গে ফেলেছে। এর কারণ সে যে খুব দুষ্টু তা নয়, বরং সে কৌতুহলী। তাকে বকাঝকা না করে তার কাছে এর কারণ জানতে চান। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখবেন যে শিশুটি খেলনার ভেতরে কি আছে সেটা জানার আগ্রহ থেকেই খেলনা ভেঙ্গে ফেলে । এধরনের কৌতুহলী শিশুদের জন্য আপনাকে এমন খেলনা বাছাই করতে হবে যাতে সে Rebuilt করতে পারবে। যেমন-Block’s কিংবা puzzles.

খেলনা Rebuilt– এর মাধ্যমে বাচ্চার imagination powerও বৃদ্ধি পায়।

৭। প্রশ্ন করাঃ 

শিশুর improvement/development-এর জন্য শিশুর সাথে প্রচুর কথা বলুন, তাকে প্রশ্ন করুন। এরফলে শিশুর পছন্দ, বিরক্ত হওয়া ,ভালো লাগা, খারাপ লাগার জায়গাগুলো তৈরি হবে। শিশুর পছন্দ, অপছন্দ সম্পর্কে তার পাশাপাশি অভিভাবকের ধারণাও স্পষ্টতর হবে। এভাবে ধীরে ধীরে শিশুর সাথে বাবা-মায়ের সম্পর্ক দৃঢ়তা পায়।

৮। আত্মবিশ্বাস বাড়ানঃ 

শিশুরা তাদেরকে কেউ Importance দিলে সেটা খুব পছন্দ করে। তাদের মতামত জানতে চেয়ে তাকে বিভিন্ন প্রশ্ন করতে পারেন।একসময় শিশুর কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে করা কিছু কাজ তাকে পরবর্তীতে একা করতে দিলে সে এর মাধ্যমে আত্মবিশ্বাস খুঁজে পাবে এবং সে সেই কাজ-টা কতটুকু আয়ত্তে আনতে পেরেছে অভিভাবকগণও সেটা মূল্যায়ন করতে পাড়বে।

শিশুদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে তাদের করা কাজ অথবা চেষ্টাকে উৎসাহ দিন। এর ফলে নতুন কোন কাজ করতে আপনার সন্তান আর ভয় পাবে না। আর ‘যেখানে ভয় নাই সেখানে তো ক্ষয় নাই’।

শিশুদের সাথে শিশুসুলভ ব্যবহারে শিশুর শিখার আগ্রহ বাড়ে এবং সেই উপায়েই তারা শিখতে চায়। শিশুর সাথে নিজেও শিশু বনে যাওয়াটাই এইক্ষেত্রে সেরা উপায়।

সর্বোপরি, আমরা বলতে পারি, একটি শিশু খেলার সময় কী ধরনের খেলনা বাছাই করছে এবং তা দিয়ে কিভাবে খেলছে বা ব্যবহার করছে ইত্যাদি থেকে শিশুর স্বভাব সম্পর্কে অবগত হওয়া যায়। আর শিশুর সাথে সময় কাটানোর মাধ্যমে এই স্বভাবগুলো পুরোপুরি জানা হয়ে গেলে খেলার ছলেই শিশুকে নানান কিছু শিখিয়ে ফেলা সম্ভব। এক্ষেত্রে Teachers Time এর নিম্নোক্ত কোর্সগুলো আপনাকে সাহায্য করতে পারে। যেমন, Spending Quality Time with Children, How Children Learn, Understand the Nature of Children, Play and Creativity ইত্যাদি। 

সুতরাং, আপনার সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ার ক্ষেত্রে তাকে সৃজনশীল কাজে সম্পৃক্ত করে তার ভেতরের Creativity গুলোর সাথে তাকে পরিচয় করিয়ে দিতে সহায়তা করুন। 

শিশুকে সৃজনশীল করে তুলতে Light of Hope এর Kids Time এ আমরা রেখেছি বিভিন্ন মজাদার Course .যা শিশুকে সৃষ্টিশীল, দক্ষ ও আত্মবিশ্বাসী মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে।

0 Shares