লাইট অফ হোপের ৮ জন Master Trainer কে আমরা একটা ওয়ার্কশপে বসে বলেছিলাম, আচ্ছা ধরুন আপনাকে ১০ মিনিট সময় দেয়া হল, যে সময়ে আপনি টেলিভিশনের সামনে কথা বলবেন বাংলাদেশের ২ কোটি অভিভাবকদের সাথে। এদের সন্তানদের বয়স ৪-১২ বছর বয়সের মধ্যে। তাদেরকে আপনি কী ম্যাসেজ দিবেন? কোন বিষয়ে জানাতে চাইবেন?

উনারা সবাই বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক এবং অভিভাবকদের সাথে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ধরণের কথা বলেন। কেউ হয়তো সরকারি স্কুলে পড়ান, কেউ বা পড়ান ইংরেজি মাধ্যমের কোন স্কুলে।

এই ৮ জন শিক্ষক যেসব কথা বলতে চান দেশের সব অভিভাবকদের, সেগুলো নিয়েই এই লেখাটি। চলুন শুনি তাহলে আমাদের দেশের স্কুলের শিক্ষকরা অভিভাবকদের কি বলতে চান।

১। সন্তানকে নিয়ে আপনার স্বপ্ন এবং পরিকল্পনা কী? আপনি কি আপনার সন্তানকে ভবিষ্যতের জন্য তৈরি করছেন?

২। সন্তানকে নিয়ে আপনার নিজের স্বপ্ন এবং পরিকল্পনা যাই থাকুক, আপনি কি আপনার সন্তানের স্বপ্ন এবং চাওয়া সম্পর্কে জানেন? কখনও কি আপনার ৫-১০ বছর বয়সের সন্তানকে জিজ্ঞেস করেছেন বড় হয়ে তুমি কী হতে চাও? আপনি সন্তানের সেই চাওয়া এবং স্বপ্নকে কতটা মূল্যায়ন করেন?

৩। আপনার সন্তানকে নিজের মতো বড় হওয়ার, গড়ে উঠার সুযোগ দিন। শিশুকে নিজের সিদ্ধান্ত নিতে দিন – তার কাজ এবং সে কী হতে চায় সেটা নিয়ে।

৪। অভিভাবক হিসাবে আপনার দায়িত্ব সম্পর্কে কি আপনি অবহিত আছেন? পরিবার শিশুর প্রথম এবং প্রধান স্কুল। আপনার শিশুর চরিত্র গঠনে আপনার ভূমিকা সবচেয়ে বেশি।

৫। আপনি আপনার শিশুর মধ্যে যে পরিবর্তন আনতে চান, সেই পরিবর্তন আগে নিজের মধ্যে আনুন। শিশুরা অনুকরণপ্রিয় এবং সে যা দেখে পরিবারে সেটাই শিখে। আপনি আপনার সন্তানের Role Model হওয়ার চেষ্টা করুন।

৬। শিশুকে নৈতিকতা শিক্ষা দিন। এটার শুরু পরিবার থেকেই। খালি পড়াশুনা আর পরীক্ষার রেজাল্টের দিকে মনোযোগ না দিয়ে তার আচরণ, নৈতিকতা, মানুষের প্রতি সহানুভূতি, সত্যবাদিতা ইত্যাদি গুণের দিকে বেশি মনোযোগ দিন।

৭। শিশুকে শিশুর মতো বেড়ে উঠার সুযোগ দিন। তাকে দিয়ে জোর করে কিছু করানোর চেষ্টা করবেন না।

৮। কখনও নিজের সন্তানকে অন্য কারোর সন্তানের সাথে তুলনা করবেন না। এতে করে তার মধ্যে confidence কমে যায় এবং সে নিজেকে অন্যর তুলনায় ছোট ভাবতে থাকে। এমনকি নিজের অন্য সন্তানের সাথেও তুলনা করবেন না।

৯। স্কুলের শিক্ষককে বলুন আপনার চাওয়া কী শিক্ষকের থেকে। খালি পড়াশুনা আর পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করানো শিক্ষকের দায়িত্ব না। দুজন মিলে ঠিক করুন পড়াশুনার পাশাপাশি সন্তানকে ভালো মানুষ হিসাবে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত কিভাবে করা যায়।

১০। সময়ের পরিবর্তন হয়েছে। সন্তান মানুষ করা এখন আগের চেয়ে আরও অনেক কঠিন। হতাশ হবেন না, মোটিভেশন ধরে রাখুন, সন্তানকে সময় দিন। স্মার্টফোন থেকে দূরে রাখুন, বেশি বেশি গল্পের বই কিনে দিন।

এই ১০ টি ম্যাসেজ আমাদের শিক্ষকরা বাংলাদেশের অভিভাবকদের জন্য দিয়েছেন। তারা বলছেন যে শিশুকে প্রস্তুত করতে শিক্ষকদের এবং অভিভাবকদের এক সাথে কাজ করা দরকার। বাংলাদেশের সব অভিভাবকরা যদি চান যে তারা এই ১০ টি বিষয় মাথায় রাখবেন, তাহলে আমাদের দেশের শিশুরা ভবিষ্যতের জন্য তৈরি হতে পারবে।

Teachers Time এর বিভিন্ন Course  শিক্ষকতা ও প্যারেন্টিংকে আরও সহজ ও সাবলীল করে তুলতে সাহায্য করবে । সন্তানকে আরও ভালোভাবে বুঝতে করে নিতে পারেন এই কোর্সটিও

লেখাটি শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন দেশের ২ কোটি অভিভাবকের কাছে।  

2 Shares

1 Comment

  • Your blog posts never fail to entertain and educate me. I especially enjoyed the recent one about [insert topic]. Keep up the great work!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *